মিডিল ইস্ট জুড়ে অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার আগুয়ান

বাহরাইন: কর্মস্থলের বাজে পরিবেশ অভিবাসীদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে

Share Find us on Twitter Find us on Facebook Find us on ... Share this via email
Sep 11 2013

২০১২ সালের মে মাসে ১০ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে একটি অস্থায়ী ভাবে তৈরী অবৈধ শ্রম শিবিরে আগুন লাগায়। ভবনটি ধারণ ক্ষমতার অর্ধেকের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। সরকার কখনো এই বাসস্থান-এর পরিবেশ তদন্ত করে দেখেনি, কারণ যে সমস্ত শ্রমিকরা এই বাসাটা ভাড়া নিয়েছিল, তারা ছিল অবৈধ। এই সমস্ত অভিবাসী কাজের চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও দেশটিতে থেকে গিয়েছিল। উপসাগরীয় এলাকায় অবৈধ ভাবে বাস করা অভিবাসীরা, তাদের কাজ হারানোর ভয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক নিরাপত্তারক্ষীদের এড়িয়ে চলে।

এই ঘটনায় বাহরাইনি কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায় এড়াতে চাইছে এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অভিযুক্ত করছে এই রকম অবস্থার মাঝে নিজেদের ঠেলে দেওয়ার জন্য। সরকারি এক মুখপাত্র দাবী করেছে যে এই মৃত্যু ঘটার কথা ছিল না কারণ “তাদের কখনোই সেখানে থাকার কথা নয়”। তবে ২০০৯ সালে বাহরাইন সরকার প্রতিশ্রুত স্পন্সরশীপ প্রথা বিলুপ্ত হলে আসলে তারা কোনদিন কিন্তু আইনগতভাবে অদৃশ্য এক ভবনে বাস করত না। অভিবাসীরা দেশে অবৈধ হিসেবে প্রবেশ করে না, কিন্তু তাদের ভিসা ও তাদের খোরাকী – তাদের স্পন্সরদের সাথে জড়িত। অভিবাসীদের মূল চাকুরীতে সমস্যা হলে (স্পন্সরের সাথে) ও চাকুরী বদল করতে চাইলে আগে দেশে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এই বাস্তবতায় অনেকে সেটি করতে চায় না। ফলে এরা এদেশে অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হয়।

যথাযথ কাজের পরিবেশ না থাকার কারণে এক পাকিস্তানী নাগরিকও তার জীবন হারিয়েছে। এই জানালা পরিষ্কার করার কাজে নিয়োজিত এই ব্যক্তি ১৭ তলা থেকে পড়ে প্রাণ হারায়, কারণ এই কাজের সময় তাকে জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রপাতি প্রদান করা হয়নি। এদিকে বাহরাইনি কর্তৃপক্ষ, উক্ত কর্মীর মালিকের নিয়ম না মেনে কাজ করার বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত হয়েছেন। উক্ত নিহত ব্যক্তির পরিবার হয়ত এখন আর কোন বীমার টাকা পাবে না কারণ সে নিজেও একটি স্পন্সরশীপ আইন লঙ্ঘন করেছে; তার পরিবারকে আরো টাকা পাঠানোর জন্য সে একটি চাকুরীর পাশাপাশি আরেকটি কাজ করত। সে তার স্পন্সরের বন্ধনকে চ্যালেঞ্জ করার মত দুঃসাহস দেখিয়েছিল।

যদিও এই সমস্ত মৃত্যু দৃশ্যত: অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবে এর সাথে সম্পৃক্ত বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু এগুলো বাহরাইনের বিদেশী শ্রমিকদের জন্য তৈরী করা শ্রম আইন নীতির যে অন্যায্য দিক, তার এক চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে স্পন্সরশীপ নীতি শ্রমের সাম্যহীনতা আরো জটিল করে তুলছে, কর্মচারীর নিরাপত্তা বিনষ্ট করছে, এবং এই বিষয়টি অভিবাসী শ্রমিকের সার্বিক পরিবেশকে আরো বিপজ্জনক করার কাজে যুক্ত হয়েছে।

প্রবন্ধটি এখানে পাঠ করুন ইংরেজীতে

This post is a translation from this article in English (Poor Working Conditions Cause Deaths In Bahrain) from the “Migrants Rights” Website

Translated into Bangla by Bijoy.

মিডিল ইস্ট জুড়ে অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার আগুয়ান